বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বেতারের আদিযুগ ও জগদীশচন্দ্র (ত্রয়োদশ পর্ব)

অর্পণ পাল Feb 23, 2024 at 9:16 pm বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

পর্ব ১৩। মার্কনি, টেসলা ও বেতার-বার্তা প্রেরণের ঘটনা

..................

উইজার্ড অফ দ্য ইথার

১৯১২ সালের এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখ। বাংলা ক্যালেন্ডারের মতে সেদিন পয়লা বৈশাখ। পৃথিবীর সমস্ত সংবাদমাধ্যম আলোড়িত হয়ে উঠেছিল একটি বিশেষ ঘটনায়। আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ টাইটানিক একটি আইসবার্গের গায়ে ধাক্কা খেয়ে ডুবে গেল অনায়াসে। যে জাহাজকে নির্মাতারা বলেছিলেন কোনওদিনই ডুববে না, সে তার প্রথম যাত্রাই সমাপ্ত করতে পারল না।

তবে সৌভাগ্যের ব্যাপার, এই জাহাজের তেত্রিশশোরও বেশি যাত্রীর মধ্যে বাঁচানো গিয়েছিল প্রায় সাতশো জনকে, কাছেই থাকা আর এক জাহাজ আরএমএস কার্পেথিয়া-য় বেতার বার্তা পাঠিয়ে। আজকের দিনে শুনে অবাকই লাগে, কিন্তু সেই সময় বিপদবার্তা প্রেরণ আজকের মতো এত সহজ আর অনায়াসসাধ্য হয়ে ওঠেনি।

আর এই বার্তা প্রেরণের কাজটা সম্পন্ন হয়েছিল মূলত যাঁর তৈরি যন্ত্রপাতির সাহায্য নিয়ে, তিনি গুগলিয়েমো মার্কনি। ইতালির নোবেলপ্রাপক যে মানুষটিকে তাঁদের দেশে ওই সময় ডাকা হত ‘উইজার্ড অফ দ্য ইথার’ নামে। তখনকার ব্রিটেনের পোস্টমাস্টার জেনারেল লর্ড স্যামুয়েল তো বলেইছিলেন, জাহাজের বেঁচে যাওয়া প্রতিটি যাত্রীর উচিত মনে রাখা যে একমাত্র মিঃ মার্কনির জন্যই তাঁরা জীবন ফিরে পেয়েছেন।

এখন আমরা শুধুই এটা ভেবে কিঞ্চিৎ দুঃখ পেতে পারি যে আর একটু কষ্ট করলে এই কৃতিত্বের জন্য সম্মান পেতে পারতেন আমাদের জগদীশচন্দ্র। যিনি বেতার-বার্তা পাঠানোর কাজে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েও পথ-পরিবর্তন করে চলে যান প্রাণ-অপ্রাণের ধূসর এক এলাকায়।

২.
উনিশ শতকের শেষ দশকে তরুণ মার্কনি তাঁদের গ্রীষ্মকালীন পারিবারিক এস্টেট ভিলা গ্রিফোন-এ বসে দিনের পর দিন চেষ্টা করে করে সক্ষম হন অল্প দূরবর্তী স্থানে বেতারবার্তা পাঠাতে। খুব বেশি প্রথাগত পড়াশুনো বা যুগান্তকারী গবেষণার মতো অসাধারণ প্রতিভা না থাকলেও মার্কনি কোনও একটা সমস্যার সহজেই সমাধান খুঁজে নিতে পারতেন, যে গুণ তাঁকে অন্যদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছিল। তাঁর এই সাফল্য পরবর্তীকালে বিপদ-সূচক বার্তা প্রেরণ করবার কাজে যুগান্তর এনে বিভিন্ন বিপদে আটকে পড়া বহু যাত্রীকে প্রাণে বাঁচাবার কাজে মূল ভূমিকা নিতে শুরু করে।

বেতার-বার্তা প্রেরণ করবার সাফল্যই মার্কনিকে এনে দিয়েছিল ১৯০৯ সালের পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার, আর তার পরেই শুরু হয় এক দীর্ঘকালীন বিতর্ক— কে আসলে এই ধরনের বার্তা প্রেরণের কাজে পথিকৃৎ? মার্কনি, নাকি আমাদের জগদীশচন্দ্র? সত্যিই কি জগদীশচন্দ্রকে বঞ্চিত করা হয়েছিল নোবেল পুরস্কারের ক্ষেত্রে? এই বিতর্ক আজও জারি রয়েছে। তবে সে বিতর্কে ঢোকবার আগে বা মার্কনির কাজের গুরুত্ব সম্বন্ধে বলতে গেলে তাঁর জীবনের শুরুর দিকের কিছু কথা বলে নেওয়া দরকার।

মার্কনির জীবনকথা

ইতালির বোলোনা শহরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে মার্কনির জন্ম ১৮৭৪ সালের ২৫-এ এপ্রিল। ইতালীয় ব্যবসায়ী গুইসেপ্পো মার্কনির দ্বিতীয় সন্তান তিনি, তাঁর মায়ের নাম অ্যানি জেমসন, জাতে আইরিশ। মার্কনির বাবা ছিলেন ইতালির এক বিশিষ্ট সম্পদশালী ব্যক্তি, মা মদ প্রস্তুতকারক একটি সংস্থার মালিকের পরিবারের মহিলা। ছোটবেলায় মার্কনি স্কুলে ভর্তি হননি, বাড়িতেই বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় পড়াতে আসতেন বেশ কয়েকজন প্রাইভেট টিউটর। এঁদেরই মধ্যে ভিনসেঞ্জো রোজা নামে একজন, তিনি পড়াতেন পদার্থবিদ্যা— তিনিই মার্কনির মধ্যে সঞ্চারিত করেন তড়িৎবিদ্যা সংক্রান্ত আধুনিক জ্ঞান। পরে মার্কনি বলেছিলেন যে এইসময় আঠেরো শতকের সমুদ্র-অভিযাত্রী ক্যাপ্টেন জেমস কুক আর আমেরিকার বিশিষ্ট উদ্ভাবক বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন-এর জীবনীও তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

তাঁর পড়াশুনো লিভার্নো টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে, পরে বোলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। যদিও প্রথাগতভাবে তাঁর বড় কোনও ডিগ্রি ছিল না।


মার্কনির মা-ই তাঁর বড় ছেলের মধ্যে থাকা সুপ্ত প্রতিভার আঁচ টের পেয়েছিলেন। পরে এই মা-ই তাঁর সঙ্গে ইতালি থেকে লন্ডনে চলে আসেন বেতার-তরঙ্গ নিয়ে কাজ করবার সময়।

ছোট থেকেই মার্কনি জেমস ম্যাক্সওয়েল, হেইনরিখ হার্জ, বা অলিভার লজের মতো তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ নিয়ে কাজ করেছেন এমন বিজ্ঞানীদের জীবন আর কাজ নিয়ে পড়াশুনো করতে ভালোবাসতেন। ইতালিতে নিজেদের প্রাসাদের বিলাসবহুল পরিবেশে বসে বছর কুড়ির মার্কনি একা-একা চেষ্টা করে যেতেন তরঙ্গের সাহায্যে বার্তা পাঠাবার। প্রথমে একটা ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, পরে ঘর থেকে বাইরের বারান্দায় এবং তারও পরে বিস্তীর্ণ উঠোনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তিনি বার্তা পাঠাতে সক্ষম হলেন।

২.
সেটা ছিল ১৮৯৫-এর আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস। মার্কনি এই বেতার-বার্তা পাঠানোর কাজে ওই সময়ে প্রথমবার সফল হলেন তাঁর পরীক্ষায়। আমাদের মনে পড়বে নিশ্চয়ই, জগদীশচন্দ্রও প্রায় একই সময়ে এই ১৮৯৫-এরই মে মাস নাগাদ তাঁর বেতার-তরঙ্গ দূরবর্তী স্থানে পাঠানোর পরীক্ষা প্রথমবার প্রদর্শন করেছিলেন প্রকাশ্যে।

মোটামুটি মাইলখানেক দূরত্বে মার্কনি তরঙ্গকে পাঠাতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর এই গবেষণার কথা সে দেশের সরকারকে খুব একটা উৎসাহিত করল না দেখে মার্কনি ঠিক করলেন লন্ডনে চলে যাবেন। এইসময়ে তাঁর মা-ই তাঁর পাশে দাঁড়ান, এবং মূলত তাঁরই আগ্রহে আর পরামর্শে মার্কনি ঠিক করেন চলে যাবেন ব্রিটেনে।

সেইমতো ১৮৯৬ সালে বাইশ বছরের তরুণ মার্কনি চলে এলেন লন্ডনে, মায়ের সঙ্গে। জুলাই মাস নাগাদ তাঁর সঙ্গে পরিচয় হল ইংল্যান্ডের পোস্ট অফিসের চিফ ইঞ্জিনিয়ার উইলিয়াম প্রিস-এর, এই পোস্ট অফিসেই মার্কনি প্রথমবার তাঁর যন্ত্রপাতির সঙ্গে পরিচয় ঘটালেন সকলের। এরপর বছরখানেকের চেষ্টায় মার্কনি প্রায় বারো মাইল অব্দি (মানে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার) দূরত্ব অবধি বেতার বার্তা পাঠাতে সক্ষম হলেন।

১৮৯৭-এর জুলাই মাসে (রেজিস্ট্রেশনের তারিখ ২০ জুলাই) মার্কনি স্থাপন করলেন ‘দ্য ওয়ারলেস টেলিগ্রাফ অ্যান্ড সিগন্যাল কোম্পানি লিমিটেড’, এটাই পৃথিবীর প্রথম বেতার বার্তা প্রেরণ সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত কোম্পানি। লন্ডন থেকে কিছু দূরে চেমসফোর্ড নামে এক জায়গাকে নির্ধারণ করা হল এই কোম্পানির ঠিকানা হিসেবে, এবং পরের বছর হল স্ট্রিটের একটা পুরনো সিল্কের ফ্যাক্টরিকে বদলে রূপ দেওয়া হল নির্মাণ-কারখানা হিসেবে। যদিও পরে এই কোম্পানি বেশ কয়েকবার নাম বদলেছে। যেমন কয়েকটা নমুনা— ১৯০০-এ মার্কনি’স ওয়ারলেস টেলিগ্রাফ কোম্পানি, ১৯৬৩ সালে মার্কনি কোম্পানি লিমিটেড, ১৯৮৭-এ GEC-Marconi Ltd., আবার ১৯৯৮ সালে মার্কনি ইলেকট্রনিক সিস্টেমস লিমিটেড, শেষে ১৯৯৯ সালে Marconi plc।

এখানে এটাও বলা দরকার যে এই সংক্রান্ত কাজে মার্কনি সবচেয়ে বেশি সাহায্য পেয়েছিলেন তাঁর খুড়তুতো ভাই হেনরি জেমসন ডেভিস-এর কাছ থেকে। এই ডেভিস-এরই সহায়তায় এর আগে ১৮৯৬-এর জুন মাসে মার্কনি পেয়ে গিয়েছেন বেতার বার্তা প্রেরণ সংক্রান্ত প্রথম পেটেন্ট। সেই ব্রিটিশ পেটেন্ট সংখ্যা ছিল ১২০৩৯, তারিখ ২ জুন, ১৮৯৬।


ইতালির স্পিজিয়া-তে মার্কনি সরকারি কর্তাব্যক্তিদের কাছে তাঁর বার্তা প্রেরণের পরীক্ষা করে দেখালেন। এই কোম্পানিই বছর দুই পরে ‘ওয়ারলেস টেলিগ্রাফ কোম্পানি’ নামে পরিচিতি লাভ করে। আরও এক বছর পর মার্কনি ব্রিটেনের আইল অফ উইট দ্বীপে তিনি একটি বেতার প্রেরণকেন্দ্র তৈরি করলেন। সেই দ্বীপে ১৮৯৮-এর গ্রীষ্মকালে ছুটি কাটাতে আসা রাণী ভিক্টোরিয়া মার্কনির ব্যবস্থাপনার সাহায্যে কাছের জাহাজে থাকা তাঁর পুত্র এডওয়ার্ডকে বার্তা পাঠাতে পারলেন। সব মিলিয়ে মার্কনির কাছে তখন সাফল্য আস্তে-আস্তে ধরা দিতে শুরু করেছে। 

এর পরের বছর ফ্রান্স আর ইংল্যান্ডকে যুক্ত করলেন বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে। 

১৮৯৯-এর মে মাস। আরও একটা ঘটনা ঘটে গেল মার্কনির জীবনে। জন অ্যামব্রোস ফ্লেমিং (১৮৪৯ - ১৯৪৫) নামে এক ব্রিটিশ ব্যক্তি ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হলেন ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনে। তিনিই এই বিষয়ের ওখানে প্রথম অধ্যাপক। এই ফ্লেমিং সাহেবকে এখন ‘ভ্যাকুয়াম ডায়োড’-এর আবিষ্কর্তা হিসেবে পরিচিতি দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ইনিই ব্রিটেনে প্রথম উচ্চশক্তিসম্পন্ন এসি পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রস্তুত করবার কাজে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। 

এই ফ্লেমিং আবার ছিলেন জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েলের একজন প্রাক্তন ছাত্র। ম্যাক্সওয়েলের কাছেই তাঁর পিএইচডির শুরু। মার্কনির অনুরোধে তিনি লেগে পড়েন আটলান্টিক-পেরিয়ে-যাওয়া বেতার বার্তার উপযোগী রেডিও ট্রান্সমিটার বানানোর কাজে। ওই ১৯৯৯ সালের মে মাসেই অধ্যাপক ফ্লেমিংকে মার্কনির কোম্পানির টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এই কাজের জন্য তাঁকে বার্ষিক তিনশো ব্রিটিশ পাউন্ড বেতন দেওয়া হবে এমনটাও স্থির হয়। ১৮৯৯-এর দ্বিতীয়ার্ধে সবাই মিলে উঠেপড়ে লাগতে শুরু করেন। কিন্তু ফ্লেমিং দেখলেন তাঁকে এই কাজে বেশ অনেকটাই বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে, এবং ঝুঁকিও বড় কম নয়। তাই তিনি লিখিতভাবে জানালেন যে তাঁর বেতন অন্তত বার্ষিক পাঁচশো পাউন্ড না করলে চলছেই না। কোম্পানির কর্তাব্যক্তিদের অন্যতম হেনরি জেমসন ডেভিস এই প্রস্তাবে রাজি হলেন; কিন্তু সঙ্গে শর্ত জুড়ে দেওয়া থাকল যে যদি এই কোম্পানি বাস্তবে আটলান্টিকের এপার-ওপার বেতার বার্তা প্রেরণ করবার পরীক্ষা সফল হয় তার পুরো কৃতিত্ব পাবেন মার্কনি, ফ্লেমিং নন। মোট কথা, লাভের গুড় খাবে পিঁপড়েই। ফ্লেমিং ওদিকে দেখলেন যে তাঁর আর্থিক দিক থেকে লাভবান হলেই হল, সুতরাং তিনিও এই শর্তে রাজি হলেন। সবাই মিলে আবার পূর্ণ উদ্যমে কাজে লেগে পড়লেন। 


মার্কনির আর এক প্রতিপক্ষ: নিকোলা টেসলা 

আটলান্টিকের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বেতার বার্তা প্রেরণ করবার কাজে মার্কনির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে আর এক বিখ্যাত উদ্ভাবকের নাম, তিনি নিকোলা টেসলা। ইনি চেষ্টা শুরু করেছিলেন নিউ ইয়র্ক থেকে। যদিও সম্পূর্ণ বিপরীত প্রান্ত থেকে; লং আইল্যান্ড থেকে পর্তুগালের উপকূল অবধি। আসলে টেসলা এই কাজের জন্য আর্থিক সাহায্যও পেয়েছিলেন যথেষ্ট। আমেরিকার এক ধনকুবের জে পিয়েরপন্ট মর্গ্যান ১৯০১-এর গোড়ার দিকে তাঁকে এক লক্ষ পঁচিশ হাজার ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পান। 

নিকোলা টেসলা-কে আজ আমরা মনে রেখেছি অসাধারণ একজন উদ্ভাবক হিসেবে। ক্যোয়েশিয়ার সার্বিয়া প্রদেশে জন্ম নেওয়া এই প্রখর প্রতিভাবান মানুষটি ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় পড়াশুনো করবার পর চলে আসেন আমেরিকায়, ১৮৮৪ সালে। এখানে এসে ইনি মেতে ওঠেন থমাস আলভা এডিসন-এর সঙ্গে বিভিন্ন জিনিসপত্র বানানোর কাজে। যেমন এখানে এসে তিনি টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটান, আবিষ্কার করেন পরিবর্তী প্রবাহের সাহায্যে চলমান মোটর এবং জেনারেটর। 

অনেকেই টেসলা-কেই বেতার বার্তা পাঠানোর কাজে পথিকৃৎ মনে করেন। মার্কনি বা জগদীশচন্দ্রদের চেয়ে বেশ কয়েক বছর আগেই, ১৮৯২ সালে তিনি বেতার ব্যবস্থার মূল কথাগুলো বুঝতে পেরেছিলেন। কয়েক বছর পর ১৮৯৮ সালে টেসলা বিনা তারে বেতার তরঙ্গের সাহায্যে নির্দেশ পাঠিয়ে ম্যানহাটান শহরের একটা লেকে রোবট-বোট চালিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। 

ওই সময়েই তিনি বুঝেছিলেন যে এই বেতার-বার্তা পাঠিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে খবর পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে অনায়াসে। এই কাজে তখন তিনি লেগে পড়েন। কিন্তু তখন তাঁর আর্থিক দশা বেশ খারাপ। আর যদিও বা সাহায্য পেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ অবধি সফল হতে পারেননি টেসলা। তাই শেষ হাসি হাসলেন মার্কনিই। তিনিই প্রথম সফলভাবে আটলান্টিকের এপার-ওপার, মানে ইউরোপ থেকে আমেরিকায় বেতার-বার্তা পাঠালেন সফলভাবে। যে ঘটনা তাঁকে ইতিহাসে বিখ্যাত করে দেয়। বিখ্যাত সেই ট্রান্স-আটলান্টিক বেতার বার্তা পাঠানোর বিবরণ আমরা কিছুটা বিস্তারিতভাবেই বলব, পরের পর্বে। 

.............................. 

* মার্কনির কাজের কথা বিস্তারিত জানবার জন্য দুটো বই পড়া যেতে পারে : 

১/ Wireless/ From Marconi’s Black-Box to The Audion. Sungook Hong. The MIT Press, Cambridge, 2001. (pdf)

২/ Marconi/ The Man Who Networked The World. Marc Raboy. Oxford University Press. 2016. (pdf)


#

Leave a comment

All fields are required. Comment will appear after it is approved.

trending posts

newsletter

Connect With Us

today's visitors

41

Unique Visitors

181444