মুক্তগদ্য

প্রলাপ (তৃতীয় কিস্তি)

প্রজ্ঞা দেবনাথ Feb 26, 2022 at 7:49 am মুক্তগদ্য ১১০

[৫]

ভারী বন্ধুত্ব দুইজনায়। কখন কে কীভাবে বন্ধু হয়ে যাবে তা-ও কি বিধাতাপুরুষ ঠিক করে‌ দেন? যদি তাই হয় তবে এই দুটিকে নিয়ে তাকে হাজারটা প্রশ্ন করতে মন চায়। আকাশ-পাতালের থেকেও যদি বেশি কোনো পার্থক্যের মাপকাঠি হাতে থাকত, তবে তাই দিয়ে মাপতে বসতাম। একজনার সাতমহলা বাড়ি, সামনে পিছনে ঘুরে বেড়ায় দশ বিশটা দাসদাসী, মা-বাপের চোখের মণি, বড়ো দাদা-দিদিদের পরম আদরের পাত্র, রূপে-গুণে ধনী। আরেকজন নিতান্তই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মে ভার বাড়িয়েছে বাবা মায়ের, সেই ছোটো থেকে নিজের হাতে নিজের কাজ, সাদামাটা সবটাই। উঠতে বসতে ওকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় যে ওর পেটের ভাতটুকু বাড়তি খরচ। এমন দুটো মানুষে দেখা হলে করুণা আর ঈর্ষার চোখাচোখি হওয়াটাই তো স্বাভাবিক ছিল। বড়োজোর শিক্ষার মার্জনায় সৌজন্যবোধের মিথ্যে‌ হাসি। এছাড়া অন্য কিছু হওয়ার কথা ছিল বলে তো পাঁচজনের মনে‌ হয়নি। কিন্তু হল। সকলের‌ চোখের অকারণ জ্বালা হয়ে আমে-জলে মিশে গেল। 

জলই বটে। দুধ হওয়ার ক্ষমতা তার ছিল‌ না। 

ওদের দেখা হলে কখনও কোনওদিন ওরা নিজেদের বাড়ির কথা, কপালের কথা বলে‌ না। সে কোনোদিন ওকে বলে না, 'তোর কী এই দুইখানাই জামা? ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই দুটোই তো পরতে দেখি!' উল্টোটাও হয় না। তার বাহারি জামা, রঙিন ব্যাগ দেখে ও-ও কখনও বলে না, 'কী সুন্দর রে! আমারও যদি হত!' সে কখনও নিজের জন্মদিনের অগুনতি উপহারের ফিরিস্তি দেয় না। আর ও কখনও মুখ ফুটেও বলে না যে ইস্কুলে একখানা পেন্সিল হারিয়ে‌ এসেছিল বলে কী মারটাই না খেতে হয়েছে ওকে! ওরা যে খুব ভেবেচিন্তে, হিসাব কষে এসব বলে না, তা কিন্তু নয়। আসলে ওদের একে অপরকে দেখলে‌ এ কথাগুলো মনেই পড়ে না। ওরা তখন ভুলেই যায় এই বন্ধুত্বের বাইরে গোটা পৃথিবীটার কথা। ওদের কথা হয় পক্ষীরাজের ডানার পালক নিয়ে, বা আকাশের নীল‌ রঙে লাল‌ মিশলে‌ সেটা বেগুনি হয় না রানি সেটা নিয়ে। ওদের গল্প হয় বড়ো হয়ে একসঙ্গে সমুদ্র, পাহাড়, জঙ্গল দেখতে যাওয়া নিয়ে। বড়ো হতে হতে আরও কত পরিকল্পনা জমে যায় বন্ধুত্বের অটুট ঝাঁপিটায়। বছর পাল্টায়, কাঁচা রাস্তা পাকা হয়, ছোটো দোকান বড়ো হয়, বস্তি তুলে দিয়ে আবাসন হয় - কিন্তু ওদের দুজনের মধ্যে কিছুই বদলায় না। 

দু'জনের দুই জীবনসঙ্গীও জুটল। এখানে ওদের পাওনার ভাগে একটু অদল বদল হয়। ধনীর যে হাত ধরে সে নিজে বড়োই মলিন। দৈন্য তার সবটা জুড়ে। আর যার সবেতেই জুটেছে পড়ে পাওয়া আটআনা, তার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধল এমন একজন সৌভাগ্যদেবতা যাকে সাত রাজার ধন না দিলেও দিয়েছেন সুখ, সমৃদ্ধি। এই যে একখানা এমন পরিবর্তন এল ওদের জীবনে তাতে দর্শকাসনের সব নড়েচড়ে বসল। ভাবল, এবার মজা হবে! কিন্তু এবারেও তাদের ঝুলিতে মিলল হতাশাই। ওদের গল্পে বদল এল না মোটেই।

তবে এত এত ভ্রু-ভঙ্গির চোটে বিধাতা পুরুষ বিরক্ত হলেন, মাথা গরম করে তর্জনিখানা নাড়িয়ে দিলেন একচুল। ধনীর জীবনসঙ্গী পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন, মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার মত অবস্থা হল তার। ওদিকে আরেকজনের মানুষটা সারাজীবনের মত জড়ভরৎ হয়ে গেলেন - গোটা সংসারটা বেশ জাঁকিয়ে উঠে বসল তার কাঁধে। দর্শকেরা এই প্রথম ভাবতে বসে। ভাবে, কেউ সোনার কপাল নিয়ে জন্মে ফুটো বাটি হাতে পায়, আর কেউ পোড়ামাটি ঘষে ঘষে সোনা বানানোর বৃথা চেষ্টা করে যায়। ওদের কপালের দাম বেশি না ওদের বন্ধুত্বের? কার কষ্ট বেশি? বিধাতা, বা দর্শক কেউই সেই ওজনের বাটখারা অনেক চেষ্টা করেও খুঁজে পান না। দর্শকাসনে সবাই এবার চুপ করে‌ যায়।

কিছুদিন পর ওদের দেখা হল। দর্শকেরা মৌন ভেঙে ফের উদগ্রীব। এবার হয়ত হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে সবটা। 

সে বলল, 'হ্যাঁ রে, সমুদ্রের কত গভীরে ডুব সাঁতার দিলে গোলাপী মুক্তোর ঝিনুক মেলে?' 

ও বলল, 'আমার কাছে তো মোটা‌ সোয়েটার একখানাই আছে। পাহাড়ে যখন বরফ পড়বে বড্ড ঠান্ডা লাগবে যে!'

….…………….. 


[৬] 


অব্যবহৃত ডাকবাক্সটার পাশে একটুখানি নিরিবিলি - ওটাই আমার বিকেল কাটানোর নিত্য জায়গা। গতে বাঁধা পড়াশোনার ইতি হয়েছে, চাকরি মেলেনি অত্যন্ত স্বাভাবিক জাগতিক নিয়মেই। তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বাড়ির লোকের গঞ্জনা আছে, প্রেমে প্রত্যাখ্যান আছে, বন্ধুদের এগিয়ে যাওয়া আছে। আছে প্রতি সন্ধ্যায় একঘেয়ে টিউশনির রুটিন, মাসে একবার করে সর্দি জ্বর, না আঁকা কিছু ছবি, না গাওয়া কিছু গান। সব একেবারে সাজানো। আর এই সাজানো ভাগ্য নিয়েই আমি রোজ সকালে বাড়ি থেকে বেরোই। কোথায় যাবো তার ঠিক থাকে না। ঘুরে বেড়াই এদিক ওদিক, শহরের আনাচে কানাচে। উদ্দেশ্যহীনতাই প্রতিটা দিনের উদ্দেশ্য। তবে যেখানেই যাই, দুপুর এলিয়ে বিকেল হওয়ার মুহূর্তে হাজির হয়ে যাই এই গমগমে চত্বরে। এসে ওই জায়গাটায় বসে পড়ি। এত এত মানুষ এখানে। এই এত মানুষের মাঝখানে আমায় কেউ আলাদা করে দেখবে না এই নিশ্চিন্তিটা বড্ড স্বস্তি দেয়। আবার তো একটু পরেই ফিরতে হবে - গোল গোল কতগুলো চোখ তাক করে থাকবে আমার দিকেই। আমার বলা কথাগুলোকে অমোঘ ধরে নিয়ে সযত্নে লিখে রাখবে তাদের খাতায়। তার আগের সময়টুকুতে নিজেকে অদৃশ্য ভাবতে ভালো লাগে।

সকালবেলার নিপাট উদ্দেশ্যহীনতা নিয়েই এখানে প্রথম এসেছিলাম। দ্বিতীয় দিন এখানে আসিনি কিন্তু! অন্য কোথাও একটা গিয়েছিলাম। কোথায় সেটা এখন আর মনে পড়ছে না। তৃতীয় দিন দেখলাম বেখেয়ালে এখানেই এসে গেছি আবার। চতুর্থ দিনেও তাই। পঞ্চমেও। তারপর নিজের কাছেই স্বীকার করে নিলাম যে জীবনটা একেবারে উদ্দেশ্যহীন হয়ে যায়নি বোধহয়। এই যে রোজ এখানে আসতেই হয়, এটাও তো এক ধরনের উদ্দেশ্যই হল, নাকি! এখানে কেন যে আসি তার কারণ বিশ্লেষণ করতে বসিনি কোনওদিন। বিশ্লেষণে তেমন যদি বিশ্বাস থাকত, তাহলে তো কবেই সব চাকরির পরীক্ষায় পটাপট পাশ দিতাম। আসলে আমার দেখতে ভালো লাগে ভীষণ! খেলতে নামার চেয়ে মাঠের ধারে চুপটি করে দাঁড়িয়ে খেলা দেখার প্রতি সেই ছোটো থেকেই বড্ড টান আমার। এই জায়গাটাও বোধহয় তাই এত প্রিয় হয়ে উঠেছে। শহরের ব্যস্ততম জায়গা না হলেও, মানুষের চলাচল যথেষ্টই। তাই বসে বসে কত মানুষ দেখি রোজ। তারা কীভাবে কথা বলে, কেমন করে তাকায়, কোনও কথায় কে কীভাবে হেসে ওঠে - সব দেখি। এখানে বসার আগে কোনোদিন খেয়ালও করে দেখিনি যে মানুষ এতরকম ভাবে হাঁটে! আমি যদি অভিনয় করতে পারতাম তাহলে এতদিনে কতরকমের আলাদা আলাদা চরিত্রের জন্য যে নিজেকে তৈরি করে নিতে পারতাম তার ইয়ত্তা নেই। সেসব তো আর পারি না, তাই শুধু চোখ মেলে দেখে যাওয়াতেই আমার আরাম। আগে ভাবতাম বাকি সবকিছুর মত এই অভ্যাস, এই চাহিদাটাও স্থায়ী হবে না। কিন্তু এখন সত্যিই মনে হয় প্রতিদিনের এই আরামটুকু না পেলে বাঁচাটা খানিক কঠিনই হয়ে যাবে। 

শুধু যে চোখ দিয়ে সবকিছু ড্যাবড্যাব করে দেখি তা কিন্তু নয়। ধীরে ধীরে একা মানুষের নানা খেলাও আবিষ্কার করেছি। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একেকদিন একেকটায় অংশগ্রহণ করি। যেমন একেকদিন আমি বসে বসে শুধু রং গুনি। আজ ক'জন লাল জামা পরে এসেছে, নীল ক'জন, কিংবা ক’জন হলুদ, গোলাপি, রানি, বেগুনি, কালো, সাদা। বেশিরভাগ দিনই দেখি লাল, নীল আর কালোর মধ্যে কেউ না কেউ জেতে। সাদা আর হলুদও জিতেছে কয়েকবার। তবে আজ পর্যন্ত রানি, গোলাপি বা বেগুনিকে জিততে দেখিনি কখনও। সবুজ বা বাদামিকেও না। এটা আমার ভারী আশ্চর্যের বিষয় বলে মনে হয়। যদিও ওই মনে হওয়া অবধিই। এই নিয়ে গবেষণা করতে ইচ্ছে হয়নি কখনও। 

আরেকটা খেলাও আছে। উল্টোদিকের বিড়ি-সিগারেটের দোকানের মাসিটার ঠিক কত টাকার বিক্রি হচ্ছে সেইটা আন্দাজ করে নেওয়ার খেলা। যদিও এই খেলার সমস্যা হল, দোকানটা এমন জায়গায় যে মাঝেমধ্যে অনেকের হাতের টাকার পরিমাণটা ভালোমতো দেখাই যায় না। তাই অর্ধেক দিন এই খেলাটা সেভাবে জমে না। এমনিই জীবন জুড়ে হিসেবের গণ্ডগোল, এখানেও গো-হারান হারতে কারই বা ভালো লাগে! 

তবে সবচেয়ে পছন্দের খেলাটা প্রায় রোজই খেলা হয়ে যায় একবার। অন্য মানুষ হয়ে যাওয়ার খেলা। নিজের জায়গায় বসে বসেই বেছে নিই কোনো একটা মানুষকে। আর তারপর তার সঙ্গে একাত্মা হয়ে যাই। তার অবস্থান, তার দৃষ্টি, তার প্রতিটা নড়াচড়া আমায় টেনে নেয়। আমি আন্দাজ করতে থাকি তার কথা, তার মুখের অভিব্যক্তি। তার একেবারে ভিতরে গিয়ে বসি। এই যেমন সেদিন এক চা-বিক্রেতা হয়েছিলাম। কেন কে জানে, তাকে দেখে মনে হল জীবনে আজ প্রথম সে চা বিক্রি করতে বেরিয়েছে। কী যে তার ইতস্তত বোধ! আমার চেয়েও বেশি। অনেকক্ষণ তাকে দেখতে দেখতে, চা খাওয়ার জন্য তার অনুনয় শুনতে শুনতে মিশে গেলাম একেবারে। সে যখন একদল প্রৌঢ়ার মাঝে গেল, আমার যেন মনে হল ওর মধ্যে দিয়ে আমিই বললাম, 'চা খাবেন মায়েরা?' ওনাদের মধ্যে কেউ হয়তো ‘মা’ সম্বোধনটা ভালোভাবে নিতে পারলেন না, তাই সেখানে এক কাপ চা-ও বিক্রি করা গেল না। ঠিক তখনই ওপাশ থেকে ডাক দিল একদঙ্গল কচি ছেলেমেয়ে। এইবারে আর কোনও ভুল করা চলবে না। মুখে কুলুপ এঁটে ওদের সামনে গিয়ে শুধু দাঁড়িয়ে পড়তে হবে। যে ক'টা চা চাইল গুনে গুনে ঠিকঠাক দেওয়া হয়ে গেল। চা খেয়ে পরিতৃপ্ত মুখে ওরা যখন টাকা দিল, লোকটা তখন দাঁড়িয়ে আছে আমার দিকে পিছন ফিরে। মুখটা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছিল না। কিন্তু আমার মনে হল - শুধু মনে হল না, আমি যেন টের পেলাম তার মুখজুড়ে মায়াময় একটা হাসি খেলে গেল। আমারও। এরপর থেকে লোকটাকে দেখলেই তার চরিত্রে ঢুকে পড়ি। ধীরে ধীরে চা বিক্রি করতে অভ্যস্থ হয়ে উঠেছি আমরা দুজনেই। কাকে কী বলতে হয়, শিখে নিচ্ছি একটু একটু করে। যদিও একদিন বড়ো ভুল হল। আমি ভাবলাম এক দম্পতিকে চা দিতে গিয়ে নিশ্চয়ই বলেছি যে, 'তোমাদের আজ অনেকদিন পর এখানে দেখলাম।' কিন্তু কী যে আসলে বলা হল জানি না, ছেলেটি চায়ের ভাঁড় ছুঁড়ে ফেলে উঠে চলে গেল। মেয়েটি ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে টাকা দিয়েই অনুসরণ করল প্রেমিককে। ওই একবারই। আর বাকি সববারেই কিন্তু ‌ঠিক ঠিক সমস্তটা মিলে যায়।

আর একবার, শুধু একদিনের জন্যই একটা ছোটো বাচ্চা হয়েছিলাম। তার মা-বাবাকে একেবারে নাকানি চোবানি খাওয়াচ্ছিলাম। যথেচ্ছাচার কাকে বলে সে তো ভুলেই গিয়েছিলাম বহুদিন। সুযোগ বুঝে নতুন করে ঝালিয়ে নিলাম। আরেকদিন হয়েছিলাম একেবারে নববিবাহিতা এক রাঙা কনে। সে কী লজ্জা! কী অনুরাগ! এক মুহূর্তের চেয়ে বেশি চোখের আড়াল হয়েছিল বলে নতুন স্বামীটির প্রতি সে কী অভিমান! প্রতিবার এভাবেই এক-একটা মানুষের মধ্যে সেঁধিয়ে যাই। থাকি কিছুক্ষণ। আবার বেরিয়ে আসি। অথচ কেউ টেরটিও পায় না। এ এক আশ্চর্য প্রশান্তি। 

আজ এখানে বসে বসে মনে হল সারা জীবনে‌ যদি আর কখনই সুখের সেদিন না আসে, খুব বেশি যন্ত্রণা হবে না বোধহয়। কারণ এই খেলা খেলতে খেলতে নিজের সম্বন্ধে এই বিশ্বাস বড় দৃঢ় হয়েছে যে আমি আদ্যোপান্ত দর্শকশ্রেণির একটা মানুষ। একেবারে নির্জলা দর্শক। কোনওদিনই চেয়ার ছেড়ে মঞ্চে ওঠার সাহস বা প্রবৃত্তি বা এতটুকু চাহিদাও যার হবে না। দিনের পর দিন মানুষ দেখে, মানুষ সেজে যে সুখের খোঁজ করে - সে আর যাই হোক নিজেকে সকলের চোখের সামনে লাইমলাইটে এনে দাঁড় করাতে পারবে না। আড়ালেই তার সুখ। অস্তিত্বের উপর মোটা আবরণই তার অস্তিত্বের ভিত। তার থেকেও বড়ো কথা, এই তো একমাত্র খেলা যেখানে আমার জেতাটা একেবারে নিশ্চিত। আমায় হারাতে পারা বা না পারাটাও তো আমারই হাতে। যতদিন, যতক্ষণ আমার ইচ্ছে হবে, আমি জিতব। জিতেই যাব। সত্যিটা এভাবে টের পাবার পরেও রাগ বা দুঃখ কোনওটাই‌ ছুঁতে পারল না আমায়।‌ বরং সারা শরীরে ছড়িয়ে গেল সুখানুভূতির শীতল স্রোত।  জীবনে বোধহয় এই প্রথম দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলাম। এই খেলা বন্ধ করা যাবে‌ না। আরও অনেক অনেক মানুষ হয়ে উঠব আমি। চোখ মেলে দেখে যাব শুধু। দেখেই যাব। কিন্তু শুধুমাত্র এইখানে বসে থাকার এইটুকু সময় কারোর দৃষ্টি কিছুতেই আমার উপর পড়বে না। হাজার চেষ্টাতেও পরিপার্শ্বের থেকে আমায় আলাদা করা যাবে না। সন্ধ্যে নেমে আসছে। ফিরব বলে উঠতে হল। সামান্য সময়ের জন্য দৃশ্যমান হওয়ার পথে পা বাড়ালাম। কিছুক্ষণের অস্বস্তি, বিরক্তি। আর তারপরেই আবার ফিরে আসব এখানে - এই ব্যক্তিগত একটুকরো আড়ালের কাছে। আমার একান্ত নিজস্ব এই আত্মগোপনের খেলার সব নিয়ম আমার আঙুলে বাঁধা। এ খেলায় কেউ 'ধাপ্পা' দিতে পারবে না আমায়। কেউ না।  


[চলবে]


পূর্ববর্তী পর্বগুলি পড়ুন :    ১) প্রলাপ (প্রথম কিস্তি) / প্রজ্ঞা দেবনাথ 

                                   ২) প্রলাপ (দ্বিতীয় কিস্তি) / প্রজ্ঞা দেবনাথ

..............................

অলংকরণ : ঐন্দ্রিলা চন্দ্র


#গদ্য #সিরিজ #প্রলাপ #প্রজ্ঞা দেবনাথ #ঐন্দ্রিলা চন্দ্র #সিলি পয়েন্ট #ওয়েবজিন #Web Portal

Leave a comment

All fields are required. Comment will appear after it is approved.

trending posts

newsletter

Connect With Us

today's visitors

6

Unique Visitors

128279