নাটক

আজগুবি (প্রথম পর্ব)

সৌপ্তিক July 17, 2020 at 1:19 pm নাটক ৮০

(আপনি এখন যেখানে বসে আছেন, তার সামনে একটা মই কল্পনা করে নিন। যে-কোনো জায়গা হলেই চলবে। তবে এমন একটা কল্পনা করা চাই যা আপনার মস্তিষ্কের কাছে চেনাপরিচিত। মইয়ের আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আপনারই চেনা পরিচিত কিছু লোকজন, তারাই কথক। তারা যে কেউ হতে পারে, তাই নামের জায়গা ফাঁকা রইল। আর রইল কল্পনায় শূন‍্যস্থান পূরণের গুরু দায়িত্ব।)

কোরাস:
সাপ খেলাতে লুডোর ঘুঁটি,
মই বেয়ে রোজ স্বপ্নে উঠি,
ধরপাকড়ের মধ্যে আমি পগাড়পার।
ধর্মতলার মঞ্চে নেচে,
এম জি রোডের ট্রাফিক বেঁচে,
হে জনগণ হলাম হাজির দরবারে।
ভিড় বাড়ে ভিড় বাড়ে
লোকাল ট্রেনে ভিড় বাড়ে
দাম বাড়ে দাম বাড়ে
নুন পান্তার দাম বাড়ে।
ভবের সাগর পিছল মাগুর
রাতের বেলা নীল মশারি-
ঘামের মধ্যে ঘুমের মধ্যে
ছট্‌ ফট্‌। ছট্‌ ফট্‌।
ভূত বাড়ে ভূত বাড়ে
কে চেপেছে কার ঘাড়ে
দাম বাড়ে দাম বাড়ে
ভূত বাবাজির দাম বাড়ে।

ভূতের কেত্তন থামলে সবচেয়ে যোগ্য যে কথার পান্ডা হতে পারে আপনার পরিচিতের অভিজ্ঞতায় সে বলে ওঠে-

____: গোটা দুনিয়াটা ঘুরপাক খেতে খেতে একটা গুবলেট গড়ে তুলছে ক্রমশ। হিঁয়া কা পানি, আর ইধার কা মছলি- উধার কা পানি মে ডাইভ মারছে। তাদের ইয়া মোটা মোটা ল্যাজ। তিড়িং করে ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে ... ঝপাং...তারপর লাল জল নীল জল সব জল বাষ্পীভূত হয়ে, চলেছে এক বৃহৎ নলের মধ্যে দিয়ে। আর সেই নল এসে ঠেকেছে তিলোত্তমা নগরীর নেশাতুর ঠোঁটে। সেখান থেকে নিপুণ গোলাকার চাকার মতো, ধোঁয়া উঠে যাচ্ছে হাওয়ায় ভর করে। বাংলা ভাষায়, এই কথার চাকতিকে বিপ্লব বলে। আর নগরীর মেখলা পরা মেঘলা আকাশে, প্রতিটি চোঁয়ানো রসের বৃষ্টিতে শরীর চোবানো ক্যাংলা ব্যাংলা ট্যাংলাকে বলা হয় বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী কিংবা খচ্চর...(নাগাড়ে বলে যাওয়ার পর সবারই শ্বাস নেওয়ার সময় লাগে, এক চরিত্র শ্বাস নেয়। অন্যেরা ভাবে ভুলে গেছে।)

----: কিন্তু তারপর কী?
(অপর একজন ফুট কেটে বলে)
----: কোহলি বস কোহলি!
----: না না, বিগ বস বিগ বস- বিগ বস! (সুর আছে কথাটির, ইউটিউবে সুর শুনে নেওয়া
যায়)
----: ট্রাফিক জ্যাম।
----: কীসের জ্যাম? প্রাইভেটাইজেশন। এ যুগে নো জ্যাম- গোটা কেসটাই দুধের মতো
সাদা, সরসর করে সব ক্লিয়ার পুরো, আমুল দুধ, পিতা হ্যায় ইন্ডিয়া!
----: একেবারে স্বচ্ছ্‌ ভারত্‌ !
----: ঝাঁটার আগায় ধুলোর মতো বাতাসে উড়বে চাকরি!
(প্রথম জন শ্বাস ফিরে পেয়ে বলে)
----: আমাদের এই ঘুরতে থাকা পৃথিবীর নড়তে থাকা চেয়ার নিয়েই যত সমস্যা। বোফর্স
থেকে সারদা; ওবামা থেকে রামকৃষ্ণ- যাবতীয় বড়ো বড়ো চুল তেলের ভাইপো ভাগনে
ভ্যাম্পায়ার বি অ্যাওয়ার! ব্লাডি সোয়াইনের দল...( চরিত্রের জলতেষ্টা পায় ও সে জল
খেতে চলে যায়)
(একজন ফুট কেটে বলে)

----: সুদিন! স্বচ্ছদিন! পুরো নেপোটিজম হীন! উলটো পালাটা না চলে মোড়ে মোড়ে
ভ্যারেন্ডার দোকান পড়বে বস্‌!
----: রস রস সবই রস!
----: রস টেলরের ব্যাটিং বলো, টেলর স্যুইফটের গান, ঝুলি ভরে এনে দেব পাবলিক যা
চান!
----: পাব্লিক পাব্লিক! কাবুলি ছোলার ঘুগনি আর কাবুলিওয়ালার ধার, হজম হয় না
কখ্‌খনো।
( জল ও ট্যাবলেটের পাতা নিয়ে প্রথম জনের পুনঃপ্রবেশ।)
----: এ ধরাধামে যেহেতু অলৌকিক আজও ঘটে এবং রানি রাসমণিও টিআরপি পায়
ফাটিয়ে, তাই ব্লাডি সোয়াইনের দল চিরকেলে নিউ বটলে ওল্ড মঙ্ক পুরে নিয়ে চলে
এসেছে। তাই এখানে এখন দাঁড়িয়ে আছে এতগুলো চরিত্র ও দুটি ল্যাম্পপোস্ট।
----: কিন্তু অ্যাসিডিটিটাই তো মেন সমস্যা! নাকি ইনসমনিয়া?
----: অতএব লাইটস ক্যামেরা অ্যাকশন!
(ট্যাবলেট গিলে প্রথম বক্তৃতা দেনেওয়ালা ব্যক্তিটি বৃদ্ধ ক্রেতা হয়ে যায়, বাকি
চরিত্রের একজন আলুবিক্রেতা, ভ্যানে করে সে আলু বেচে। বাকিরা হয়ে যায় ‘ওঁচাটে
জাস্ট আছে’ গোছের দুটি যুবক। যাদের ‘ওঁ.জা.আছে ১’ ও ‘২’ নামে চিহ্নিত করা হবে। )

নাকে একটু আঁশটে গন্ধ পেলে ভালো হয়। মনে করে দেখা যাক, শেষবার বাজারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা। যেরকম জটলা হয়ে থাকে আর কী, সেরকমই কোনও জটলায় ক্রেতা বলে ওঠে-

ক্রেতাঃ আলুর দাম কুড়ি টাকা! বলো কী হে ছোকরা!
বিক্রেতাঃ দাম বাড়ি গেছে বাবু!
ক্রেতাঃ কে কার বাড়ি গেছে আমার জেনে লাভ কী? বারো টাকায়...
বিক্রেতাঃ বাড়াবাড়ি! পত্তায় পোষাবে না বাবু!( ভ্যান নিয়ে আলুবিক্রেতা চলে যায়)
ক্রেতাঃ রইল তোর আলু, বাড়ি গিয়ে ভেজে খা গা!
ওঁ.জা.আছে১: গ্র‍্যান্ডফাদার সাতসকালে খিটখিটে মেজাজ নিয়ে কোথায় চললে?
ক্রেতা: যমের দখিন দুয়োরে বাপ।
ওঁ.জা.আছে২: ভূত হয়ে ঘাড়ে চাপবে নাকি?
ক্রেতাঃ ভূতেই তো ধরেছে সব ব্যাটাকে! ভাবলাম আলু দিয়ে ইলিশের ঝোল খাব!
ওঁ.জা.আছে১: নোলা তোমার কম নয়!
ক্রেতাঃ তাও তো সরষে দিয়ে খেতে চাইনি!
ওঁ.জা.আছে১: মন্টু চুষে লে!
ওঁ.জা.আছে২: কাকু বাড়িতে ইলিশ হচ্ছে ইনভাইট করলে না?
ক্রেতাঃ ইলিশের কনজাংটিভাইটিস হয়েছে বাবা, ও আমার মুখে রুচবে না। তোরা কি আর
বুঝবি পদ্মার ইলিশের ...
ওঁ.জা.আছে১: জয় মা গঙ্গা! সাতসকালে পদ্মার পুরোনো সেন্টু ঝেড়ো না তো!
ক্রেতাঃ কী আছে তোদের গঙ্গায়?
ওঁ.জা.আছে২: সাতসকালে এই এক তক্কো...
ক্রেতাঃ চলি তবে?
ওঁ.জা.আছে২: না না, কোথায় যাবে?
ওঁ.জা.আছে১: কাকা! শুনে যাও...
ক্রেতাঃ কী শুনব?
ওঁ.জা.আছে১: একটা জবরজস্ত আইডিয়া আছে! এ ভাই, যা না। কাকার জন্য একটা লাল
চা আর আমার জন্য একটা দুধ নিয়ে আয় না!
ক্রেতাঃ সকালে দুধ, আর রাত্রে ঢুকুঢুকু! খোকন আমার!
ওঁ.জা.আছে২: আরে কাকা হাইপার হচ্ছ কেন?
ক্রেতা: হাইপার কেন হব বাবা? নেতিয়ে গেছি, ভিজে দেশলাইয়ের মতো– হাজার ঘষা
পড়লেও ফুলকি বেরুবে না!
ওঁ.জা.আছে১: বাবার কাছে শুনতাম লেফট ব্যাক খেলতে দেওয়ালের মতো। বাবা ছিল
মোহনবাগান, তুমি ইস্টবেঙ্গল হলেও রেসপেক্ট দিত তোমায়।
ক্রেতা: ধুর ধুর, ওসব আপদ গেছে!
ওঁ.জা.আছে১: পুজোর সময়ে ভাসানের দিন মশাল ধরতে তুমি! মুখে থাকত কেরোসিন! ছুড়ে
দিতে আগুনে, আর আগুনটাও দপ করে উঠত! দূর থেকে তোমায় দেখে লাগত পুরো
ড্রাগন!
ক্রেতাঃ এসব তোর বাপ বলত বুঝি?
ওঁ.জা.আছে১: আরও কত কিছুই বলত।
ওঁ.জা.আছে২: তুমি আরও কীসব যেন করতে, দেওয়াল টেওয়াল- চিন টিন!
ক্রেতাঃ এই ছো ছো! রাম রাম!
ওঁ.জা.আছে১: কী হল কাকা পেটো মেরে?
ক্রেতাঃ ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা। চোখের সামনে দারুচিনি দ্বীপ দেখতে পেতাম! লাল পতাকা
রাঙানো। পরে বুঝলাম ওসব বাবার দয়া! অ্যাকশনে যাইনি! চেহারাটা যদিও এখনকার
মতো ছিল না, তবুও ভীতুর তো আর রোগা মোটা সরু বেঁটে হয় না! কাজেই বিপ্লব
স্পন্দিত বক্ষে আমি পাশবালিশ জড়িয়ে ঘুমিয়েছি।
ওঁ.জা.আছে২: আরিক্কাকা! বেশ কাব্য করছ তো!
ক্রেতাঃ হাতের ঝোলায় পুঁটিমাছ ছাড়া আর কিছু নেই, ইলিশ টিলিশ ভাগ্যে নাই, তাই
কাব্যে আপত্তি কীসে? বিগত যৌবন তো বিগত জন্মই!
ওঁ.জা.আছে১: শোনো কাকা, আমাদের মিটিংয়ে একবার চলো।
ক্রেতাঃ আমি!
ওঁ.জা.আছে২: হ্যাঁ!
ক্রেতাঃ না বাবা। পাড়ার ক্লাব শনিমন্দির মিটিং মিছিলে আমি নেই। আমার প্রস্টেটের
সমস্যা আছে।
ওঁ.জা.আছে২: কাকা, তুমি ছাড়া...
ক্রেতাঃ আমি ছাড়া পেতে চাই...
ওঁ.জা.আছে১: আরে গোটা কেসটা শোনো তো!
ক্রেতাঃ সব শুনতে পাচ্ছি আমি! তোরা সব পাড়ার বখাটে বাউন্ডুলের দল কী যেন সব
করছিস! এ কী আর ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আম্পায়ারিং কাটা!
ওঁ.জা.আছে১: তার চেয়েও সহজ!
ক্রেতাঃ পুঁটিমাছের ঝোল রাঁধতে হবে, আমি চলি!
ওঁ.জা.আছে২: কাকা, অনেক আশা নিয়ে তোমার কাছে এসেছিলাম কাকা! তুমিই লাস্ট
হোপ!
ক্রেতাঃ হোপ মাই ফুট! আমি নেই।
ওঁ.জা.আছে১: বাবার কাছে শুনেছিলাম, এই কাজটা তুমি ভালো পারো।
ক্রেতাঃ কই তোর বাপ তো আমার কাছে পুঁটির ঝোল খায়নি!
ওঁ.জা.আছে২: কাকা প্লিজ!
ক্রেতাঃ পাস্ট ইজ পাস্ট।
ওঁ.জা.আছে১: আচ্ছা আছহা, ঠিক আছে। ছাড়ো। খুঁজে নেব কাউকে। তুমি আসলে সিনিয়র
বলে ভাবছিলাম, তা ছাড়ো!
ক্রেতাঃ কিন্তু কাজটা কী?
ওঁ.জা.আছে১: না না, কিছু না, ছাড়ো।
ক্রেতাঃ আরে কী ব্যাপারটা একটু বল, একবার শুনেই দেখি।
(তিনটি চরিত্র পড়ে থাকা আরশোলার দেহের পাশে পিঁপড়ের জমায়েতের মতো ভিড় করে
বিড়বিড় করে। ক্রেতা চরিত্রটি মাঝেমধ্যে গা ঝেড়ে দিয়ে সব মন্তরের উপরে একটি
করে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে এই মন্তরের দেওয়াল ভেদ করার চেষ্টা করে ও তারপর আবার
মন দিয়ে শোনে।)
ওঁ.জা.আছে১: তাপুরতেমঝদাড়্যব দিফুদ্যেফহিলহু লজ্জক্ললুয়বনফদতুওল্ল...
ক্রেতাঃ চুরি?
ওঁ.জা.আছে২: আহ! শোনো না মন দিয়ে... তিয়িউ পুরিধচিহেন গিলিপিপ রিকগজ্জ
ঘঘভবমকফ দনপিলদফফগ্লজন তিন্নছিন্ন ক্লিন্ন লদসঘসচক...
ক্রেতাঃ আত্মনির্ভর?
ওঁ.জা.আছে১: ধ্যার! বুকিয়েভহু জুজুদিন্ন ফিন্ন তাপুড়তেমঝদাড়্যবস বস ফস ক্লিট তুব
বুপ দফকি স্ফুজ্ঞল দিফফু...
ক্রেতাঃ আবার চিন!
ওঁ.জা.আছে১: তুমি এত চেঁচাও কেন বলো তো?
ক্রেতাঃ আরে কাজটা কী সেটা তো বলবি! করতে হবে কী?
ওঁ.জা.আছে১: চমকে দিতে হবে কাকা! জাস্ট চমকে দিতে হবে। ঢিসক্যাঁও ঢিসক্যাঁও
ঢিসক্যাঁও। (আঙুলকে বন্দুক ঠাওর করে কথাগুলো বলে চরিত্র।)

আগের নামহীন তিনজন আবার গান ধরে। দেখা যায় শুধু মইটা।


নীলচে দেওয়াল লালচে ঘুড়ি
সেদিন ছিল বয়স কুড়ি
আকাশ থেকে নামছিল সব ভূত।
মেট্রোপলিস জয়ের সিটি
আবার এখন রাস্তা হাঁটি-
রাস্তা জুড়ে অসংখ্য চিরকুট।
চিরকুটে সব রাস্তা আঁকা,
পথগুলো সব বেবাক ফাঁকা
পথের মধ্যে হাঁটতে থাকে ভূত।

‌‌‌‌ (ক্রেতাকে ফিরে আসতে দেখা যায়, চাদর গায়ে হাতে কিছু একটা লুকিয়ে মইয়ের সামনে এসে দাঁড়ায় লোকটি। ভাবটা অনেকটা প্রহরীর মতো।)

ভূত বাড়ে ভূত বাড়ে রাস্তা জুড়ে ভূত বাড়ে
টান মারে টান মারে কে যে কাকে টান মারে
অম্বল আর অ্যাসিডিটি, সব মিলিয়ে মেট্রো সিটি
ঘুপচি গলি জল জমেছে রাতে
বারুদ যেসব মিইয়ে গেছে, ঘষতে গিয়ে ফুরিয়ে গেছে
কে যে কখন আগুন লাগায় তাতে!

ক্রেতা: ছেলেগুলো সব বেরিয়ে পড়েছে। দৌড় দৌড় দৌড়। রানাঘাট থেকে বারুইপাড়া, বনগাঁ থেকে ক্যানিং, গোসাবা থেকে জঙ্গিপুর, টাকি থেকে পুরুলিয়া- এখন ওরা ছুটবে। আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছে। হাতের পাতায় ঘাম জমছে। জমুক। ছুটুক ওরা, ছুটতে ছুটতে বয়স বাড়ুক। যেটুকু পারবে সেটুকু আগুন ওরা তুলে দেবে মশাল থেকে মশালে। একটা রিলে রেস! পৃথিবীর দীর্ঘতম রিলে রেস শুরু হয়ে গেছে। যারা বলবে ভূতে পেয়েছে, বলুক। বলতে দিন তাদের। বলতে বলতে একদিন তাদের মুখ থেকে লালা বেরিয়ে আসবে। তার সাথে টুকরো টুকরো রক্ত মাখা কফ।

(তিনটে ছায়ামূর্তি প্রবেশ করে। নাম দিয়ে তাদের পরিচয় বোঝানোর নেই। ধরে নেওয়া
যায় তারা সংখ্যা)
১: এই ওটা কে রে?
২: হরেন কাকা না?
ক্রেতা: রাত বাড়বে, দাঁড়িয়ে থাকব জেগে। আমার ছেলেগুলো স্বর্গ থেকে আগুন চুরি
করতে গেছে। আমি দাঁড়িয়ে থাকব একা, যক্ষের মতো, রক্ষীর মতো।
১: এ পাগলা বুড়ো ঘুমোতে যা।
২: সার্কিট শট হয়ে গেছে নাকি?
ক্রেতা: ঘুমের কথা বলবে না, জেগে থাকতে দাও। সারা শহর ঘুমিয়ে পড়েছে- আওয়াজ
তোল।
৩: কি রে বুড়ো! ঘুমাবি না ঘুম পাড়িয়ে দেব?

ক্রেতার চাদরের তলা থেকে বেরিয়ে আসে বন্দুক। অন্ধকারের মধ্যে তিনটে গুলির শব্দ হয়। বন্দুকের শব্দে সাধারণত অবস্থান পরিবর্তন হয় মানুষের। তাই তারা গান গেয়ে
ওঠে।


মানুষ শুধু মৃত মানুষ বাড়ে
শহর তবু এগিয়ে চলে রোজই
বরফ শুধু জলের খবর বলে,
মানুষ তবু মৃত মানুষ বাড়ে।
হাওয়ায় কত ভুল জমেছে, ‘জানো?’
হারতে রাজি অচেনা সরগমে।
মানুষ তবু হারিয়ে যাচ্ছে রোজই,
মানুষ শুধু কফিন বয়ে চলে।
নদীর কাছে ভুল হয় না কিছু,
অতীত শুধু ছুটছে পিছু পিছু-
ভুল ঠিকানায় পাঠিয়ে দিয়ো চিঠি,
শব্দ শুধু ঠোঁটের খবর বলে।
মানুষ তবু আগুন হয়ে জ্বলে,
দিনের শেষে ছাই হয়ে যায় ঠিকই।
আরও হাজার তারা খসার মতোই,
মানুষ শুধু মৃত মানুষ বাড়ে।

(চলবে)

#নাটক

Leave a comment

All fields are required. Comment will appear after it is approved.

trending posts

newsletter

Connect With Us

today's visitors

47

Unique Visitors

121570